মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গ্রাম আদালত

১। গ্রাম আদালত কি?

উত্তরঃ- বৃটিশদের আগমণের পূর্বে এদেশে পঞ্চায়েত নামে যে সংস্থা প্রচলিত ছিল তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল বিচার কার্য সম্পাদন ও ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসা করা। বৃটিশরা যদিও প্রথমে এ দায়িত্ব স্থানীয় সংস্থার উপর অর্পণ করেনি কিন্তু বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগেই ১৯১৯ সালের পল্লী স্বায়ত্ব শাসন আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন বোর্ডকে দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় প্রকার মামলার বিচার করার এখতিয়ার দেয়া হয়। আমাদের দেশের দরিদ্র জনসাধারণের অধিকাংশই গ্রামে বাস করে। এ দরিদ্র জনসাধারণের পক্ষে শহরে গিয়ে দীর্ঘ দিন মামলা-মোকর্দ্দমা চালানো অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার; সুতরাং গ্রাম পর্যায়ে যদি ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসা ও মামলা মোকর্দ্দমা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকে তাহলে তারা অনেক বিড়ম্বনা ও খরচের হাত থেকে অব্যাহতি লাভ করতে পারে। দ্রুত বিচার কার্যের ফলে ঝগড়া-বিবাদের তীব্রতা ও ব্যাপকতা বহুলাংশে কমে যায় এবং তা গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রথম কয়েক বছর যদিও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় বিচার কার্য করার কোন ক্ষমতা ছিল না; কিন্তু গ্রাম আদালত অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এবং পরবর্তীতে ২০০৬ সালের গেজেট এর মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে পুনরায় বিচার কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিচার নিষ্পত্তিমূলক ও সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যেই এ আদালত প্রবর্তন করা হয়েছে।

২। গ্রাম আদালতের গঠনঃ-

একজন চেয়ারম্যান এবং বিবাদের প্রত্যেক পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দু'জন সদস্য নিয়ে মোট ৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। প্রত্যেক পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দু'জন সদস্যের একজন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হবেন। তবে প্রকাশ থাকে যে, অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত কোন মামলা পরিচালনার জন্য কোন পক্ষ কোন আইনজীবি নিয়োগ/মনোনীত করিতে পারিবেন না।

তবে যদি চেয়ারম্যান কোন কারণ বশতঃ তাঁর দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, কিংবা তাঁর নিরপেক্ষতা সম্পর্কে আপত্তি ওঠে তাহলে পরিষদের অন্য কোন সদস্য আদালতের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ সদস্য মনোনয়ন দিতে ব্যর্থ হন তবে উক্ত মনোনয়ন ছাড়াই আদালত বৈধভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। যদি কোন পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের কোন সদস্যকে পক্ষ